গাইড · জিপিএ
এসএসসির জিপিএ কীভাবে হিসাব হয়
নম্বর থেকে গ্রেড, গ্রেড থেকে পয়েন্ট, আর পয়েন্ট থেকে জিপিএ — তিন ধাপে পুরো হিসাব। নিচে নিয়মগুলো উদাহরণসহ দেওয়া হলো; দাখিলেও একই নিয়ম।
বোর্ডের নিয়ম মিলিয়ে দেখা হয়েছে
ধাপ ১ — নম্বর থেকে গ্রেড ও পয়েন্ট
প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড হয় পূর্ণমানের শতকরা হিসাবে। ১০০ নম্বরের বিষয়ে ৮০ পেলে A+, আর ৫০ নম্বরের বিষয়ে ৪০ পেলেই A+।
| ১০০ নম্বরে | ৫০ নম্বরে | গ্রেড | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|
| ৮০–১০০ | ৪০–৫০ | A+ | ৫.০০ |
| ৭০–৭৯ | ৩৫–৩৯ | A | ৪.০০ |
| ৬০–৬৯ | ৩০–৩৪ | A- | ৩.৫০ |
| ৫০–৫৯ | ২৫–২৯ | B | ৩.০০ |
| ৪০–৪৯ | ২০–২৪ | C | ২.০০ |
| ৩৩–৩৯ | ১৭–১৯ | D | ১.০০ |
| ০–৩২ | ০–১৬ | F | ০.০০ |
পাস করতে প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৩৩% লাগে। সৃজনশীল, বহুনির্বাচনী আর ব্যবহারিক — প্রতিটি অংশেও আলাদাভাবে ৩৩% পেতে হয়; যেকোনো একটিতে কম পেলে মোট নম্বর যত বেশিই হোক, ওই বিষয়ে F।
যেমন সৃজনশীল ৭০ + বহুনির্বাচনী ৩০ বিষয়ে সৃজনশীলে কমপক্ষে ২৩ আর বহুনির্বাচনীতে ১০ লাগে।
ধাপ ২ — কোন বিষয়গুলো গোনা হয়
জিপিএ হয় আবশ্যিক বিষয়গুলোর পয়েন্ট দিয়ে। বাংলা ১ম ও ২য় পত্র মিলে একটি বিষয়, ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র মিলে আরেকটি — দুই পত্রের নম্বর যোগ করে এক গ্রেড (২০০-এর মধ্যে ৬৬ পেলে পাস)। এসএসসিতে আবশ্যিক বিষয় সাধারণত ৯টি:
- বাংলা (১ম + ২য় পত্র)
- ইংরেজি (১ম + ২য় পত্র)
- গণিত
- ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অথবা বিজ্ঞান — বিভাগ অনুযায়ী
- বিভাগের তিনটি বিষয় — যেমন বিজ্ঞানে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন আর জীববিজ্ঞান বা উচ্চতর গণিত
এর বাইরে একটি ৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয় থাকে — সেটি দিয়ে ভাগ হয় না, শুধু বোনাস দেয় (ধাপ ৩)। বোর্ড কোনো বছর বিষয়ের তালিকা বদলালে বোর্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিই মানুন।
ধাপ ৩ — জিপিএ বের করা
আবশ্যিক বিষয়গুলোর পয়েন্ট যোগ করুন; ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট থেকে ২ বাদ দিয়ে যা থাকে, তা যোগ করুন; তারপর আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। ফল ৫.০০-এর বেশি এলেও জিপিএ ৫.০০।
জিপিএ = (আবশ্যিক বিষয়ের মোট পয়েন্ট + ৪র্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা; বোনাস = ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট − ২ (২ বা তার কম হলে ০)
| বিষয় | গ্রেড | পয়েন্ট |
|---|---|---|
| বাংলা | A | ৪.০০ |
| ইংরেজি | A- | ৩.৫০ |
| গণিত | A+ | ৫.০০ |
| ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা | A+ | ৫.০০ |
| আইসিটি | A | ৪.০০ |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | A | ৪.০০ |
| পদার্থবিজ্ঞান | A- | ৩.৫০ |
| রসায়ন | A | ৪.০০ |
| জীববিজ্ঞান | A+ | ৫.০০ |
| উচ্চতর গণিত (৪র্থ বিষয়) | A | ৪.০০ |
- আবশ্যিক ৯ বিষয়ের মোট পয়েন্ট = ৩৮.০০
- ৪র্থ বিষয়ের বোনাস = ৪.০০ − ২ = ২.০০
- জিপিএ = (৩৮.০০ + ২.০০) ÷ ৯ = ৪.৪৪ — গ্রেড A
- ৪র্থ বিষয় ছাড়া হতো ৩৮.০০ ÷ ৯ = ৪.২২
কখন জিপিএ ৫, কখন ফেল
- সব আবশ্যিক বিষয়ে A+ হলে ৪র্থ বিষয় ছাড়াই জিপিএ ৫.০০।
- একটি বিষয়ে A (৪.০০) থাকলেও ৪র্থ বিষয়ে A+ পেলে: ৪৪ + ৩ = ৪৭, ৪৭ ÷ ৯ = ৫.২২ — জিপিএ ৫.০০।
- কোনো আবশ্যিক বিষয়ে F হলে বাকি সব বিষয়ে A+ থাকলেও জিপিএ ০.০০ — ফেল। ৪র্থ বিষয়ের বোনাস তখন কাজে আসে না।
- ৪র্থ বিষয়ে F হলে কিছু কাটা যায় না — শুধু বোনাস মেলে না।
জিপিএ থেকে গ্রেড
পুরো ফলাফলের গ্রেডও জিপিএ থেকে আসে:
| জিপিএ | গ্রেড |
|---|---|
| ৫.০০ | A+ |
| ৪.০০–৪.৯৯ | A |
| ৩.৫০–৩.৯৯ | A- |
| ৩.০০–৩.৪৯ | B |
| ২.০০–২.৯৯ | C |
| ১.০০–১.৯৯ | D |
| ০.০০ | F |
এইচএসসি, দাখিল আর আলিমে
এইচএসসি, দাখিল আর আলিমেও একই পদ্ধতি — গ্রেড টেবিল, ১ম-২য় পত্র আর ৪র্থ বিষয়ের নিয়ম এক। শুধু আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা আলাদা (যেমন এইচএসসিতে সাধারণত ৬টি), তাই ভাগও হয় সেই সংখ্যা দিয়ে।
স্কুলের পরীক্ষায় এই হিসাব নিজে থেকে
BDEducationManager-এ শিক্ষকেরা নম্বর দিলেই প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড, জিপিএ, পাস-ফেল আর মেধাস্থান এই নিয়মেই হিসাব হয় — ১ম-২য় পত্র মিলিয়ে, অংশে অংশে পাস দেখে, ৪র্থ বিষয়ের বোনাসসহ। সাময়িক, বার্ষিক, নির্বাচনী বা মডেল টেস্ট — সব পরীক্ষায়।
প্রশ্নোত্তর
৪র্থ বিষয় যোগ করে কি ১০ দিয়ে ভাগ হয়?
না। ৪র্থ বিষয় যতই ভালো হোক, ভাগ হয় শুধু আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে; ৪র্থ বিষয় থেকে যোগ হয় শুধু ২-এর ওপরের পয়েন্ট।
বাংলা ১ম পত্রে কম, ২য় পত্রে বেশি — তাহলে?
দুই পত্রের নম্বর যোগ করে একটি বিষয় ধরা হয়, তাই পাস আর গ্রেড দেখা হয় ২০০-এর মধ্যে মোট নম্বরে।
জিপিএ ৫ আর গোল্ডেন A+ কি এক?
না। জিপিএ ৫ মানে গড় ৫.০০ — ৪র্থ বিষয়ের বোনাসের সাহায্যেও হতে পারে। ‘গোল্ডেন A+’ বলা হয় যখন ৪র্থ বিষয়সহ প্রতিটি বিষয়ে আলাদা আলাদা A+ থাকে।
জিপিএ দশমিকের পর কয় ঘর?
দুই ঘর — যেমন ৪.৪৪ বা ৩.৮৯।
আজই আপনার প্রতিষ্ঠান চালু করুন
কয়েক মিনিটেই রেজিস্ট্রেশন, আজই কাজ শুরু। আগে দেখে নিতে চাইলে বা কিছু জানার থাকলে কল করুন বা লিখুন — আমরা দেখিয়ে দেব।